লামায় বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সত্যতা মিলেনি

0
99

বান্দরবান প্রতিবেদক :

বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রামগতি ত্রিপুরা পাড়ায় দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের কোন সত্যতা মেলেনি। শুক্রবার গঠিত মেডিকেল বোর্ডে দুই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষার পর একাধিক সুত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে কিছু আলামত চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর লামা থানায় দায়ের করা মামলায় বিজিবির কোনো সদস্যের জড়িত থাকার প্রমান সত্যতা পাওয়া যায়নি জানিয়ে একাধিক সুত্রের দাবী দীর্ঘদিন থেকে ত্রিশডেবা থেকে বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিজিবি‘র সদস্যদের বিরুদ্ধে উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিতভাবে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আপ্রুচিং মার্মা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিজিবি ক্যাম্পের অবস্থান দেড় কিলোমিটার দূরে এবং রামগতি পাড়ার অবস্থান ৫‘শ গজের মধ্যে। পোষাক পরিহিত লোকজন এতদূরে গিয়ে এ জাতীয় একটি ঘটনা ঘটাতে পারেনা। এটা বিজিবির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন থেকে বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার করার ষড়যন্ত্র করছে দাবী করে স্থানীয় অধিবাসী মো: লুৎফুর রহমান ও মনির উদ্দিন বলেন, বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারবে ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বিষয়টিকে বিজিবির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, দেড় কিলোমিটার দূর থেকে গিয়ে পোষাক পরিহিত লোকজন ধর্ষণ করবে এটা কাল্পনিক।

রবিউল ইসলাম, ফারুক ও সুমন নামে কোন বিজিবি সদস্য ত্রিশডেবা ক্যাম্পে কর্মরত নেই জানিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আসাদুজ্জামান জানান, ত্রিশডেবা ক্যাম্প সরানোর ষড়যন্ত্র অনেক পুরনো। বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার বা সরানো হলে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার সব বাঁদা দুর গবে। সে কারণে সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী ত্রিশডেবা বিজিবি ক্যাম্পের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তে মেতে উঠেছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আপ্পেলা রাজু নাহা জানান, ধর্ষণের শিকার হওয়া দুই শিশুর এজাহার রের্কড করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর থেকে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে। অধিকতর গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে দুই কিশোরীকে ধর্ষনের অভিযোগে শুক্রবার লাম থানায় দায়ের করা মামলার আসামী জনেরুং ত্রিপুরা-কে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণ মামলার অপর আসামী বিজিবি নায়েক রবিউল ইসলাম, সদস্য সুমন ও ফারুক নামে কাউকে সে চিনে না বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুরিশকে জানিয়ে জনেরুং ত্রিপুরা। ধর্ষণ ঘটনার বিষয় সম্পর্কে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবী করেছে সে। এদিকে পুলিশ শনিবার বিকেলে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।