ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত হবে অরণ্যভূমি খাগড়াছড়ি

0
50

গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়িতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম আশা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ,ঝুলন্ত ব্রিজ, তারেং, রিছাং ঝরণাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পর্যটকে মুখরিত হবে পর্যটন কেন্দ্র । ঈদ মৌসুমের বাড়তি ব্যবসার আশা করছে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের বিপুল সমাগম হবে। পাহাড়,অরণ্য,ঝরনা দেখতে পাহাড়ে ছুটে আসে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। সারা বছর পর্যটক আসলেও ঈদকে কেন্দ্র করে সেই সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ আলুটিলাসহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক জানান, খাগড়াছড়ির প্রধান আকর্ষণ আলুটিলাতের প্রচুর পর্যটক আসবে। সারা বছর এখানে পর্যটক আসলেও ঈদের বন্ধে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রটি সংস্কার হওয়ায় পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভিউ পয়েন্ট বানানো হয়েছে। আলুটিলা এখন পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসে।এদিকে পর্যটকদের আগমনের ভালো ব্যবসা হবে আশা করছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন সারা বছরই কম বেশি বেচাকেনা হয়। তবে ঈদের ছুটিতে পর্যটক আসলে আরো ভালো ব্যবসা হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পোশাকের প্রতি পর্যটকের বিশেষ আর্কষণের কারণে ঈদের ছুটিতে বিকিকিনি বেশি। ইতোমধ্যে হোটেলের অধিকাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ঈদের বুকিং শুরু হয়েছে। আশা করছি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও পাহাড়ি জেলাতে প্রচুর লোক বেড়াতে আসবে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসা করতে পারবে। ইতোমধ্যে জেলার শহরের অর্ধশতাধিক হোটেল মোটেলের অধিকাংশ কক্ষ বরাদ্দ হয়ে গেছে। তবে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ভাড়া চালিত যানবাহন সরবরাহকারী জিপ সমিতির ল্যাইনম্যান খোকন দাশ জানান, গতবারের তুলনায় এবার ঈদে গাড়ি কম বুকিং হচ্ছে। আতংকের কারণে পর্যটক কম আসছে। অন্যসময় প্রচুর গাড়ি বুকিং হত । এবার মাত্র ১৯ টি গাড়ি অগ্রিম বুকিং হয়েছে। এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ । খাগড়াছড়ি জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ সন্তোষ ধামাই জানান, ঈদে পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে ট্যুারিস্ট পুলিশের মোবাইল টিম । সবগুলো কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের তিনদিন আগে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল শুরু হবে এবং ঈদের পর আরো তিনদিন পর্যন্ত টহল চলবে। এছাড়া যাতায়াতের সুবিধার কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়ি জেলা শহর হয়ে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি যাচ্ছে। সাজেকগামী পর্যটকদের কেন্দ্র করে জেলার হোটেল মোটেল ও রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন সংশ্লিষ্টদের বাড়তি আয় হয় ।