গাইরিং থেকে মেঘবাড়ি: অনবদ্য ভ্রমণমালা

0
60

সমির মল্লিক ॥ ‘বিষাদের খামে ভরে মেঘের ঠিকানায় চিঠি পাঠায় মেঘ বালিকা। পাকদন্ডি বেয়ে উঠা যুবকের চোখে আকাশ,মেঘের প্রেম দেখতে দথে মিজোরামের আকাশ দেখা। জুমিয়া নারীর পরিশ্রান্ত মুখ,ঝরনা ছন্দকেও ব্যাথিত করে।’বইয়ের শুরুতে এমন শব্দমালার বিন্যাস পাঠককে বইটি পড়ার জন্য ব্যাকুল করে তুলতেই পারে। বাংলাদেশের সীমান্তের সাজেক উপত্যাকা ,পাহাড় ,ঝরনা,পাহাড়ের মানুষ,ইতিহাস এর নির্মোহ বিবরণ এমন্ কিছুই ইঙ্গিত করে। পাহাড়ের গন্ধ পেয়ে বই টি পাঠের জন্য কিছুটা উত্তেজনা কাজ করছিল। সিঙ্গাপুর,ইন্দোশিয়া এবং বাংলাদেশের পাহাড়ি উপত্যকা সাজেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির অনবদ্য বিবরণ তুলে ধরেছেন লেখক।

দূর সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় বেশি টেনেছে বইটির শেষভাগে থাকা  প্রচ্ছদ শিরোনামের ‘গাইরিং থেকে মেঘবাড়ি’। নিজের চেনা জানা সবুজ প্রকৃতির দারুণ বিবরণ পেলাম এই অংশে।  এখানে সাজেক ভ্রমণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটার নিখুত ছাপ রয়েছে। ‘বর্ষায় পাহাড় যৌবন স্নাত পুর্ণাঙ্গ নারী হয়ে উঠে। সবুজ আচঁল ঢেকে দেয় সবকিছু। ….তাই পাহাড়ের সব ঋতুতে আসা যায়। শুধু রূপ আলাদা মাত্র পায়।’ অনেকে কেবল সবুজ দেখতে বর্ষায় পাহাড়ে আসতে চায়। তবে পাহাড় প্রতি মৌসুমের তার রঙ বদলায় । এমনটায় বলেছেন লেখক। প্রকৃতিতে এভাবে দেখতে হয়।   কেবল সুন্দর প্রকৃতির গদবাঁধা বিবরণ নয় এখানে স্থান পেয়েছে পাহাড়ের মানুষের সংগ্রাম,ভৌাগিলিক গঠন,আর্থ সামাজিক অবস্থা। বইয়ে লেখক বলেছেন ‘মাইনী নদী পেরিয়ে এলাম। পাহাড়ের কোলে বেড়ে উঠা  প্রকৃতি শিশুরা হাতে নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছে। ওরা জানে না আমরা ওদের সবুজ কেড়ে নিচ্ছি’ । হয়তো একদিন পাহাড়ের চিরসবুজ নিঃশেষ  হয়ে যাবে এমনটায় ইঙ্গিত করেছে তিনি। এখানে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি সুদূর ভবিষ্যতের নির্মম সত্য তুলে ধরেছে। এমন অগ্রবর্তী চিন্তা বইটিকে অন্ন্য করে তুলেছে। ভ্রমণ মালা এমনই হওয়া উচিত ।

বইয়ের প্রচ্ছদে পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক প্রকৃতি স্থান পেয়েছে। সূচিপত্র  থেকে প্রকাশিত বইটি ভ্রমণ পিপাসুদের তৃষ্ণা মিটাবে। রকমারিতে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।