করোনার ধাক্কা লেগেছে পাহাড়ের পর্যটনে

0
28
নিজস্ব প্রতিবেদক :   মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতে। পর্যটন মৌসুমে প্রচুর পর্যটক এলেও এবার উল্টো চিত্র। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরপরই কমে গেছে পর্যটকের আগমন। পর্যটকরা অগ্রিম বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। কমে গেছে বিকিকিনি। এতে লোকসান গুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে পর্যটকশূন্য হয়ে গেছে তিনি পার্বত্য এলাকা। এতে বেকার হয়ে গেছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে খাগড়াছড়ির সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে জেলা ছাড়তে শুরু করেছেন পর্যটকরা।বৃহস্পতিবার দুপুরে সাজেক থেকে ফেরার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা যার যার গন্তব্যে যেতে শুরু করেন। নিষেধাজ্ঞার পর পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলো। এ সময় খাগড়াছড়ি থেকে ফেরার সময় পর্যটকরা জানান, খাগড়াছড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। এখন নিষেধাজ্ঞার পর ফিরে যাচ্ছি। পাহাড়, অরণ্য, ঝিরি, ঝরনা ও উপত্যকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম। পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছরই ব্যাপক পর্যটকের সমাগম হয়। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ খাতে।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাহাড়ে প্রচুর পর্যটক সমাগম হলেও এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত ব্রিজ, তারেং, রিছাং ঝরণাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় কেন্দ্রে এখন সুনসান নীবরতা।
খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালি ভ্রমণে কম পর্যটক আসায় লোকসান গুনছে পরিবহন শ্রমিকরাও। তারা জানান, করোনার কারণে পর্যটক কমে গেছে। প্রতিদিন ৫০টি চান্দের গাড়ি সাজেক গেলেও এখন যাচ্ছে মাত্র ২০টি। ভাড়ায়চালিত সিএনজি অটোরিকশা যেত ২০ থেকে ২৫টি। রোববার গেছে মাত্র ৪টি। এখন পর্যটন নিষিদ্ধ করায় কোনো আয় নেই।
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পর্যটক সমাগম কম। অনেক বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। যাদের সামনের ছুটিতে বেড়াতে আসার কথা তাদেরও আসার সম্ভাবনা কম। এ নিষেধাজ্ঞা লম্বা হলে লোকসান গুনতে হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপচন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সুরক্ষায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।